রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ - ১৩:৪১
অন্ধকারে মোজতবা খামেনীর সঙ্গে বৈঠক, আসল মানুষ কিনা প্রশ্ন পেজেশকিয়ানের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সামরিক ও কৌশলগত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থতার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের ঘনিষ্ঠ পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান, দেশটির নেতৃত্ব এবং ইসলামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে তীব্রতর মনস্তাত্ত্বিক ও প্রচারণামূলক যুদ্ধে নেমেছে-এমন অভিযোগ উঠেছে। এরই একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উযমা সাইয়েদ মোজতবা খামেনী নাকি ‘৯০ শতাংশ শেষ’ হয়ে গেছেন। এর আগে ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ধ্বংসেরও দাবি করেছিলেন; অথচ ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন তথ্য ও প্রতিবেদন সেই দাবিগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এ সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে কিছু কথা:

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ওপর চাপানো যুদ্ধে মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পরাজয় ও মার খাওয়ার পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান  রাহবার (নেতা) আয়াতুল্লাহ আল-উযমা ইমাম সাইয়েদ মুজতবা খামেনেয়ীর বিরুদ্ধে তীব্র ও প্রচণ্ড অপপ্রচার ও মনস্তাত্বিক যুদ্ধে নেমেছে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র),ইত্যাদির (ইসরাইল)ও পশ্চিমা দেশগুলো যার একটি নমুনা হচ্ছে দৈনিক ইত্তেফাকের এই সংবাদ প্রতিবেদন।

এই সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে:প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মোজতবা খামেনি '৯০ শতাংশ শেষ' হয়ে গেছেন।

অন্ধকারে মোজতবা খামেনীর সঙ্গে বৈঠক, আসল মানুষ কিনা প্রশ্ন পেজেশকিয়ানের

ট্রাম্প এ ধরনের বহু কিছু দাবি করেছে ও করে। যেমন: এই ইতর বদমাইশটা দাবি করেছিল যে মাযুরার সামরিক বাহিনী নাকি ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর ৯০% এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও শক্তির ৯০% ধ্বংস করে দিয়েছে।

তাহলে ইরান কী দিয়ে হোর্মুয প্রণালী এই দীর্ঘ ৫ মাসের অধিক কাল ধরে নিয়ন্ত্রণ করছে যা বহুবার হামলা, বোমাবর্ষণ ও যুদ্ধ করেও মাযুরা ইরানের হাত থেকে খসাতে ও দখল করতে পারে নি? ইরান কি অতিগুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ করে নৌশক্তি দিয়ে নাকি জিন-ভূত-প্রেত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে?!!।

এই খবীস নরখেকো শিশু খাদক নরাধম পিশাচের দাবি মোতাবেক যদি ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র এবং আকাশ ও বিমান শক্তি ধ্বংস হয়ে যেয়ে থাকে তাহলে ইরান কিভাবে মাসের পর মাস এই দীর্ঘ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে   অনবরত অবিরাম ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখে পশ্চিম এশিয়ার (মধ্যপ্রাচ্য) সকল দেশে মাযুরার অত্যাধুনিক প্রকাণ্ড বিশাল বিশাল সামরিক ঘাঁটি সব ধ্বংস করতে পেরেছে?

ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে মাযুরার খবর ও সংবাদ মাধ্যম সমূহেই প্রকাশিত হয়েছে যে এ যুদ্ধে এখনো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের ৭০% অক্ষত ও বিদ্যমান আছে। উল্টে মাযুরার বড় বড় সংবাদ মাধ্যম সমূহে প্রকাশিত হয়েছে যে মাযুরার অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অত্যাধুনিক কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি ও অভাব দেখা দিয়েছে বলেই ট্রাম্প বেশ কয়েক বার ইরানের অবকাঠামো সমূহের ওপর ব্যাপক হামলার হুমকি দিয়েও শেষে পিছিয়ে গেছে।

আর এখন এই উল্লুকটা দাবি করছে: ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উযমা ইমাম সাইয়েদ মুজতাবা খামেনেয়ী নাকি ৯০% শেষ হয়ে গেছেন!!!! ওর এই দাবিটাও ওর পূর্বেকার দাবিগুলোর মতো অসার, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

মাযুরা ও ইতরাইলের নাশকতামূলক সন্ত্রাসী টার্গেট কিলিং থেকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্যই অত্যন্ত সংগত কারণেই পাঁচ মাস ধরে আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনেয়ী প্রকাশ্যে আসছেন না। এখন তাঁকে যে নিরাপত্তা বলয় ও বেষ্টনীর মধ্যে থাকতে ও অবস্থান করতে হচ্ছে তা থেকে প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসলে তা চরমভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।

অতএব তাঁর জীবনের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য এমন দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করতে  ও বজায় রাখতে হবে। ইতর বদমাইশ নরাধম সন্ত্রাসী সন্ত্রাসবাদী মার্কিন ও ইতরাইলী খবীসরা সুযোগ পেলেই তাঁর পিতার মতো তাঁকেও টার্গেট করে নাশকতা মূলক সন্ত্রাসী হামলা চালাতে মোটেও দ্বিধাবোধ করবে না ও পিছপা হবে না।

এই প্রতিবেদনেই বর্ণিত হয়েছে যে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেযেশকিয়ান বর্তমান নেতার সাথে দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা বৈঠক করেছেন। আর অন্ধকার পরিবেশে তাঁর সাথে প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ও বৈঠক কিংবা গোপন স্থানে অন্ধকার ও কালো গ্লাস ঘেরা গাড়ীর ভেতরে তাঁর সাথে প্রেসিডেন্টের দেখা-সাক্ষাত ও বৈঠকের গল্পটা ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার সাথে প্রেসিডেন্টের আড়াই ঘন্টা ব্যাপী বৈঠকের ঘটনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং তা অনেকটা ফিল্মী কায়দায় জেমস বন্ড সিরিজের থ্রিলিং উপাখ্যান ও কাহিনীর মতো যা পশ্চিমা এবং ইরান বিরোধী সংবাদ মাধ্যম সমূহ অজ্ঞাত অখ্যাত ইরানী সূত্রের (?) বরাত দিয়ে বয়ান করেছে। আর এতে করে এ খবর ও প্রতিবেদনের মিথ্যা হওয়ার বিষয়টা একদম স্পষ্ট হয়ে গেছে।মনে হয় যে এ কাহিনী নিয়ে ভালো হলিউডী চলচ্চিত্র (অ্যাডভেঞ্চার ফিচার ফিল্ম) বানানো যাবে!!

আর কিছু দিন পরে পশ্চিমা চোচাল (সোশ্যাল তবে এগুলোকে আনসোশ্যাল ও এ্যান্টিসোস্যাল বলাই শ্রেয়) মিডিয়ায় যদি এমন কোনো ফিল্ম প্রদর্শিত হয় তাহলে এতে অবাক হবার কিছুই থাকবে না।

এ সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে: "অন্ধকারে মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক, আসল মানুষ কিনা প্রশ্ন পেজেশকিয়ানের।" আচ্ছা, এ ধরনের প্রশ্ন কি প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট করতে পারেন যা রাষ্ট্রীয় সরকারী আনুষ্ঠানিকতা ও প্রোটোকল বিরোধী এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় নিরাপত্তা, স্বার্থ, ঐক্য ও সংহতির সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য লঙ্ঘন যার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ?!!! জাতীয় নিরাপত্তা, ঐক্য ও সংহতি বিপন্ন কারী এমন কথা বলার অধিকার কি প্রেসিডেন্টের আছে?!! যেমন ধরুন: রাশিয়া হঠাৎ আক্রমণ করে যুরার (যুক্তরাজ্য) বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসকে মেরে ফেললো এবং যুবরাজ হ্যারি ট্যারি (ওর প্রকৃত নাম আমার জানা নেই তবে যুরার যুবরাজ) এ হামলায় আহত হলে নিরাপত্তার জন্য সে (হ্যারি ট্যারি) বাধ্য হয়ে অজ্ঞাত নিরাপদ ও অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে আত্মগোপন করল এবং এই অবস্থায় তাকে যুরার (যুক্তরাজ্য) রাজা বলেও ঘোষণা করা হল উত্তরাধিকারী সূত্রে (নেতা নির্বাচনী পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে নয়)!!

বেশ কিছু দিন পর যুরাখুরার (যুক্তরাজ্য বা ব্রিটেনের) প্রধান মন্ত্রীটা (কী যেন ওর নাম ? এত ঘনঘন প্রধানমন্ত্রী চেঞ্জ হলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম মনে রাখাই মুশকিল,যা হোক) আত্মগোপন কারী নতুন রাজার সাথে অন্ধকারে অজ্ঞাত কোনো স্থান বা বিশেষ নিরাপত্তায় অন্ধকার ও কালো গ্লাসে ঘেরা মটর গাড়ীতে বৈঠকের পর সে (আত্মগোপনকারী নয়া রাজা) আসল মানুষ কিনা- প্রকাশ্যে এ প্রশ্নটা করতে ও বলতে পারবে? রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সরকারী প্রোটোকল প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে এমন প্রশ্ন করার অধিকার দেবে? আর করলে জাতীয় নিরাপত্তা পরিপন্থী অত্যন্ত বিপজ্জনক কথা বলা ও বক্তব্য দেওয়ার জন্য যুরার পার্লামেন্ট কি তাকে ইম্পিচমেন্ট (অভিসংশন) করবে না?!!!!

তাহলে পশ্চিমা, ইসরাইলী ও ইরান বিরোধী মিডিয়ার বানোয়াট এ গল্পের আসল হাল হকিকত একদম স্পষ্ট হয়ে গেল। আসলে এ গল্প তৈরি ও রটনার মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র ও ব্যাপক অপপ্রচার চালানো যারফলে ইরানী জাতি, ইরানের মিত্র ইসলামী প্রতিরোধ সংগ্রামী আন্দোলন ও গ্রুপ সমূহ, ইরানের মিত্র দেশসমূহ এবং সমগ্র বিশ্ববাসী ইরানের নেতৃত্ব, সরকার, ইসলামী বিপ্লব ও প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে যেন হতাশ হয়ে যায়, তাদের সবার মাঝে যেন অবিশ্বাস তৈরি হয় এবং ইরানের ভেতরে মাযুরা ও ইসরাইলের এজেন্ট ও চররা যেন মনোবল পেয়ে চাঙ্গা হয়ে নাশকতামূলক তৎপরতা চালায়।

আর এমনটা হয়ে গেলে ইরান ও ইসলামী প্রতিরোধ কারী গ্রুপ সমূহ প্রতিরোধ সংগ্রামের মনোবল, স্পৃহা ও উদ্যম মানসিক ভাবে হারিয়ে ফেলবে এবং তখন তাদেরকে মাযুরা ও ইতরাইল (ইসরাইল) অনায়াসে পরাজিত ও ঘায়েল করতে পারবে!!প্র ত্যক্ষ সামরিক যুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে সুবিধা করতে না পেরেই মাযুরা, ইতরাইল, পশ্চিমা দেশগুলো এবং এদের সংবাদ মাধ্যম সমূহ ইরানের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে জটিল মনস্তাত্বিক হাইব্রিড প্রচারণামূলক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

মাযুরা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

ইসরাইল: ইসরাইল

  ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha